মিরকাদিমের ধবল গরু বিলীন হওয়ার পথে
ম রক দ ম র ঐত হ – মিরকাদিম ও আশপাশের এলাকায় গরু পালনের ঐতিহ্য দুই শতাব্বৎ পুরোনো রয়েছে। কয়েক বছর আগেও রাজধানী সহ দেশের সব পাশ থেকে কোরবানির ঈদে ধবল গরু কিনতে ক্রেতারা ছুটে আসতেন। এগুলো দেড় লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়।
তবে বিপুল চাহিদার পরিস্থিতিতে এখন খামারি এবং গৃহস্থ পরিবারগুলো ধবল গরু লালন-পালনে আর অনেক কম ভাগ নেন। অনেকটা গৃহস্থ পরিবার বিদেশে চলে গেছে বা অন্য কাজে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে গরু পালনে জায়গা কমে গেছে এবং খাবারের উৎস নেই। কাঁচা ঘাস ও খড় কিনতে হয় দূর থেকে যারা প্রান্তিক খামারি বলেন।
ফসলি জমি কমে গেছে
মিরকাদিমে ধবল গরু পালন করা সুন্দর জাতের কারণে সাধারণত ক্রেতাদের বিশেষ পছন্দ। গরুর শরীরে গোলাপি বর্ণ থাকায় এগুলো আলাদা হয়। মাংসের স্বাদ এ গরুগুলো আরও পরিচিত করেছে। কিন্তু অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে খামারির জন্য। খৈল, ভুষি এবং কুড়ার দাম বেড়েছে বলে খামারিরা জানান।
পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ হাটে মিরকাদিমের ধবল গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বর্তমানে তার পরিমাণ অনেক কমে গেছে। শামসুদ্দিন গাজী বলেন, “বহু বছর আগে থেকে আমাদের পছন্দের শীর্ষে মিরকাদিমের ধবল গরু। প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমি এগুলো কিনে কোরবানি দিয়ে আসছি। তবে গত বছর ছয়টি গরু দামে কিনতে পেরেছিলাম, এবার চারটি কিনতেই সেই খরচ হয়ে গেছে।”
গরু পালনে কষ্ট বৃদ্ধি
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে কখনো কখনো খামারিরা ক্রেতারা বিলীন হওয়ার পথে। এখন কেবল কয়েকটি বাড়িতে ধবল গরু পালন হচ্ছে। খোরশেদ আলম বলেন, “আগে ২০-৩০টা ধবল গরু লালন করতাম, এখন এক-দুটি পালতেই কষ্ট। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি হয়েছে এবং জমি কমে গেছে।”
ফলে পরিশ্রম বৃদ্ধি হওয়ায় ধবল গরু পালন কমিয়ে দিয়েছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম এ জলিল বলেন, “ধবল গরু মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমের ঐতিহ্য। কিছু খামারি এখনও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এগুলো পালন করছেন।”
গাজীপুরের একটি ফার্মে ৮০টির বেশি ধবল ষাঁড় গরু রয়েছে। সেখান থেকে বীজ সংগ্রহ করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। যাঁরা শৌখিন, কোরবানির ঈদে তাঁদের মিরকাদিমের গরু চাই-ই চাই।
প্রান্তিক খামারিরা জানান, মিরকাদিম পৌর এলাকায় গরু লালন করতে কাঁচা খাবার কিনতে হয় দূর থেকে। যা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। স্থানীয়রা বলেন, আগে বাড়ি বাড়ি গরু পালন হতো, এখন কয়েকটি বাড়িতে হাতে গোনা হচ্ছে।
অর্থনীতি ২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম ২ ঘ
