সরবরাহের আশ্বাসের মধ্যেই এলপিজি বাজারে তীব্র অস্থিরতা
Patrikajournal.com – পর য প ত মজ ত ও – দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির মজুত যথেষ্ট থাকার কথা বলা হলেও ভোক্তাদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে, আর পাওয়া গেলেও নির্ধারিত মূল্যের অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই চাপ স্পষ্ট: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বাজারে এখন এর দাম উঠেছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
এক সপ্তাহ আগেও একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাড়তি ৪০০ টাকা দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ৩৩ কেজির সিলিন্ডার এলাকাভেদে ৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৩৫ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ৫ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্য দিয়েও প্রয়োজনমতো সিলিন্ডার নিশ্চিত করতে পারছেন না বহু পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আমদানিকারক ও বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটের দায় দিচ্ছে ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর। তাদের বক্তব্য, সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বাজারের বিভিন্ন স্তরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিপরীতে ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, অক্টোবরের নতুন মূল্য ঘোষণার অপেক্ষায় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
এই বিরোধের মাঝে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ গ্রাহক। রান্নার জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসার পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে; সেই চাপ শেষ পর্যন্ত খাবার বা সেবার দামে যুক্ত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার এলপিজির সংকট এবং দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে বিইআরসি ও কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
দাম নির্ধারণ থাকলেও বাজারে কার্যকারিতা নেই
বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সেই মূল্য বাস্তব বাজারে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের শেষ দিক থেকে এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। তখন কম আমদানি ও সরবরাহ ঘাটতির কথা তুলে নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া শুরু হয়।
সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতি আবার দ্রুত খারাপ হতে থাকে। ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে গত সপ্তাহে ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছায়, আর চলতি সপ্তাহে বহু জায়গায় তা ২ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়েছে। শুধু মূল্যবৃদ্ধিই নয়, দোকানে দোকানে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগও বাড়ছে।
দেশে এলপিজি ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। মাসিক চাহিদা আনুমানিক দেড় লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশ রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। ফলে ওই আকারের সিলিন্ডার কমে গেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন সরাসরি ব্যাহত হয়।
এনবিআরের তথ্য বলছে, আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। আমদানি তথ্য ও বাজারে সরবরাহ-সংকটের এই ব্যবধান এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সরকারি উদ্যোগ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
গত সোমবার জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে এলপিজি কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত মজুত থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছে। পরে বুধবার অনলাইন বৈঠকে দেশের সব জেলা প্রশাসককে সংকট ও অতিরিক্ত দামের বিষয়টি তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকদের তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব এলাকায় সরবরাহ কম, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে কোম্পানিগুলোর আশ্বাসের সঙ্গে বাজারের চিত্র মিলছে না। রাজধানীর গোড়ান, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার সংকটের কথা জানিয়েছেন। গোড়ানের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন নিজ দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করেন। মাসে সাধারণত ১০ থেকে ১৫টি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও গত ১৫ দিন তিনি নতুন কোনো সিলিন্ডার পাননি। তাঁর বাসাতেও এলপিজি ব্যবহার হয়; গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন।
অক্টোবরে নতুন দাম ঘোষণার আগে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে মনে হচ্ছে না।
গোড়ানের কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ২০ সেপ্টেম্বর তাঁরা ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনেছিলেন। কয়েক দিনের ব্যবধানে একই পণ্যের জন্য দিতে হয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা। বনশ্রীর খানদানি রেস্তোরাঁয় এলপিজি পাওয়া গেলেও ব্যয় সামাল দিতে প্রতি প্লেট ভাতের দাম ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা করা হয়েছে।
অটোগ্যাস স্টেশনেও সরবরাহ কম
এলপিজি কেবল রান্নার জ্বালানি নয়; ব্যক্তিগত গাড়িতে অকটেনের বিকল্প হিসেবে অটোগ্যাসও ব্যবহৃত হয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে অটোগ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন চালকেরা। দেশে অন্তত ১ হাজার ১০০টি অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা।
এখন অধিকাংশ স্টেশনে এলপিজির সরবরাহ প্রায় বন্ধ। দ্রুত নতুন দাম সমন্বয়ের জন্য বিইআরসিতে আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো মূল্য সমন্বয় হয়নি এবং সরবরাহও বাড়েনি।
সাধারণত মাসের ২ তারিখে বিইআরসি নতুন এলপিজি মূল্য ঘোষণা করে। ২ অক্টোবর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ৪ অক্টোবর রোববার নতুন মূল্য ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন সেই ঘোষণার দিকে থাকলেও ভোক্তাদের প্রধান দাবি, নির্ধারিত দামে সিলিন্ডারের নিয়মিত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হোক।
দেশে প্রায় ৩০টি এলপিজি অপারেটর থাকলেও আমদানির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোম্পানির সংখ্যা মাত্র ৬ থেকে ৭টি। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অপারেটরদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে অবৈধ মজুতের ঘটনায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। বাজার তদারকি, সরবরাহের প্রকৃত হিসাব এবং নির্ধারিত মূল্য কার্যকরের মধ্যে সমন্বয় না এলে এই সংকটের বোঝা আরও দীর্ঘ সময় ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is পর য প ত মজ ত ও?
পর য প ত মজ ত ও is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does পর য প ত মজ ত ও matter?
পর য প ত মজ ত ও matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

