ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গোতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আক্রমণ ও আগুন ধরার ঘটনা
ইব ল আতঙ ক কঙ গ য় – ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় ইবোলা বিস্তার বৃদ্ধির সাথে সাথে মংবওয়ালু শহরে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে আক্রমণ ও আগুন ধরার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে তাঁবুতে আগুন জালায়, যেখানে সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল। এ হামলায় কেউ আহত হয়নি, কিন্তু আতঙ্কে চিকিৎসাকেন্দ্রে থাকা ১৮ জন রোগী পালিয়ে গেছেন।
তদন্তাধীন পরিস্থিতি ও সংকট বৃদ্ধি
বর্তমানে প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণ ও ইবোলায় মৃত্যুর সম্ভাব্য ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে ডিআরসিতে এই প্রাদুর্ভাব এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করেছে, যদিও বৈশ্বিক সংক্রমণের সম্ভাবনা এখনো কম।
“গত শুক্রবার রাতে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ পরিচালিত তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।”
এ ঘটনার আগে রোয়ামপারায় একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরার চেষ্টা করা হয়। এতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা হয়, কিন্তু তাঁর দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রাদুর্ভাবের কারণে মৃত ব্যক্তির দেহ সংক্রামক হওয়ায় সরকার সংকট মোকাবিলার জন্য কর্মকর্তাদের ক্ষমতার সঙ্গে সতর্কতার সাথে পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা
গত শনিবার রোয়ামপারায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইবোলা আক্রান্তদের গণদাফন সম্পন্ন হয়। রেড ক্রসের টিম লিডার ডেভিড বাসিমা জানান, স্থানীয় যুবকদের বাধা ও প্রতিরোধের মুখে তাঁদের কাজ করতে হয়েছে। সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা স্বাস্থ্যকর্মীরা সিল করা কফিন মাটিতে নামিয়ে দাফন করেন, আর দূর থেকে স্বজনদের কান্না করতে দেখা যায়।
ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে মানুষের জমায়েত ও রাতভর শোকসভা নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ছড়িয়ে পড়া বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি। আফ্রিকা সিডিসি বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালক ডা. রিচার্ড লোকুদি জানান, আতঙ্কে রোগীরা ছুটোছুটি শুরু করে এবং ১৮ জন সন্দেহভাজন রোগী পালিয়ে যান। এটি এক সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের দ্বিতীয় হামলা। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ডা. রিচার্ড লোকুদি আরও জানান, এই ঘটনার পর প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বর্তমানে ইবোলার কারণে সাতজন মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৮২টি নিশ্চিত সংক্রমণ রয়েছে।
