বাহ্যিক সাজসজ্জা মানুষের মর্যাদার মানদণ্ড নয়
ব হ য ক স জসজ জ – বাহ্যিক সাজসজ্জা বা বাহ্যিক চাকচিক্য মানুষকে বিচার করার বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট। বাংলাদেশের সমাজে প্রায়ই দেখা যায় যে কেউ ধন-সম্পদ, পোশাক-পরিচ্ছদ বা বাহ্যিক বেশভূষার ভিত্তিতে মানুষকে সাধারণ বা উল্লেখযোগ্য মনে করে। কিন্তু পবিত্র কোরআনে ইসলাম বাহ্যিক সাজসজ্জা দিয়ে মানুষকে বিচার করার বিষয়ে গুরুতর নিন্দা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদের এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্র দ্বারা বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে কে কতটা তাকওয়াসম্পন্ন তার জন্য তিনি অধিক মর্যাদাসম্পন্ন হবে।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত ১৩) এই বাক্যগুলি স্পষ্ট করে বাহ্যিক সাজসজ্জা এবং সামাজিক স্থানের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করা একটি মূল ভুল বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
ইসলাম কি ভাবে মানুষকে বিচার করেছেন?
ইসলাম মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করার জন্য তাকওয়া বা ঈমানদারী এবং চরিত্র কৌশল প্রধান হয়ে আসে। মহানবী (সা.) এর বাণীতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বাহ্যিক রূপ বা বাহ্যিক সাজসজ্জা দিয়ে তাকে বিশেষ মর্যাদার প্রাপ্তি ঘটানো হয় না। তাকওয়ার ভিত্তিতে সে কতটা মর্যাদাসম্পন্ন তাই মূল নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে কমপক্ষে দুইটি আয়াত বা উপদেশ আছে যে বাহ্যিক সাজসজ্জা কে স্থান দেয় না। বিশেষ করে সমাজে আজকের মানুষ কে বাহ্যিক রূপ দিয়ে বিচার করার সুপ্রসিদ্ধ অভ্যাস সম্পর্কে ইসলামের বিচার করা হয়েছে।
সমাজে কী ঘটেছে কিন্তু একটি মুক্ত মন দিয়ে সমালোচনা করা হয় না?
বাহ্যিক সাজসজ্জা দিয়ে মানুষকে বিচার করা বিশেষ করে সমাজে একটি দুর্দার প্রবণতা। বাংলাদেশের কোনো জাতি বা গোত্র বিচার করে না বলে কেউ কে বাহ্যিক রূপের ভিত্তিতে সম্মান দেয় কিন্তু একটি মুক্ত মন দিয়ে সমালোচনা করে না। কেউ টুপি, পাঞ্জাবি বা দ্বিনি পরিচয়ের কারণে আবার অপমান করা হয়। কিন্তু একজন সৎ, আল্লাহভীরু কিন্তু সাধারণ পোশাক পরিহিত ব্যক্তি হয়তো বিশেষ মর্যাদা না পাবে। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো মানুষকে তাকওয়া ও আমানতদারি বরাবর বাহ্যিক সাজসজ্জা বা অর্থ-সম্পদ কে প্রাধান্য দেয়া হয় না।
ধনী পোশাক এবং বাহ্যিক চেহারা কিভাবে বিচার করে?
ইসলামে বাহ্যিক সাজসজ্জা বা চেহারা মানুষের মর্যাদার মানদণ্ড হিসাবে গ্রহণ করা হয় না। সমাজে ধনী ব্যক্তি যে একটি বিশেষ মর্যাদা পায়, তার কারণ হলো তার আমানতদারি ও সৎ আমল। কোনো ব্যক্তি যে কতটা বাহ্যিক রূপ পরিচ্ছন্ন হয় এটি সমাজে বিচার করার জন্য যথেষ্ট নয়। বাহ্যিক সাজসজ্জা মানুষকে তুচ্ছ করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদা তার মানবিকতা ও চরিত্রের উপর ভিত্তি করে।
পবিত্�
